ads

লন্ডনে নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ফ্রি দৈনিক সংবাদপত্র ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড। ১৯৭ বছর পুরনো এই মুদ্রিত দৈনিক সংবাদপত্রটি দৈনিক থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হচ্ছে। বুধবার এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নয় জন রাজা-রাণীর শাসনকাল দেখেছে এই সংবাদপত্র। আর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী দেখেছে ৩৯ জন। দুটি বিশ্বযুদ্ধেও ছাপা অব্যাহত ছিল এই সংবাদপত্রের। আজ যে লন্ডন নগরী গড়ে উঠেছে, এই নগরীর গড়ে ওঠার পেছনে অসংখ্য বড় ও ছোট গল্পের সাক্ষী লন্ডন ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড।

লন্ডনের বড় বড় টিউব ও বাস স্টেশনের বাইরে প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্য বিনা মূল্যে এই সংবাদপত্র বিলি করছেন কর্মীরা। কিন্তু ডেকে ডেকে পত্রিকা দেয়ার এই দৃশ্য হয়তো আর খুব বেশী দিন দেখা যাবেনা। কেননা প্রকাশক কোম্পানি এখন থেকে কেবল অনলাইনে এবং সপ্তাহে একটি কপি ছাপার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেননা, লন্ডনের টিউবে যাত্রী কমে গেছে এবং অনেক টিউব স্টেশন এবং ট্রেনে ওয়াইফাই কানেকশন চালু হয়ে গেছে। এর ফলে ছাপা কাগজ না পড়ে বাস-ট্রেনের যাত্রীরা তাদের মোবাইলে সংবাদ পাঠে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

২০০৯ সাল থেকে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড। কিন্তু এখন ছাপা কাগজ চালিয়ে যাওয়ার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খরচ উঠে আসছেনা বিজ্ঞাপন কিং অন্যান্য আয় থেকে। গত ছয় বছরে পত্রিকাটি লোকসান দিয়েছে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

লন্ডন ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড এর সাবেক একজন সম্পাদকের কাছে দৈনিক ছাপা বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই খবর একটি দুঃসংবাদ, কিন্তু খবরটি তাঁর কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়।

দৈনিক মুদ্রণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কতো লোকের চাকুরী যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দৈনিক মুদ্রণ বন্ধ হয়ে গেলে লন্ডনের বাসিন্দাদের কাছে মনে হতে পারে, তাদের একের সাথে অপরের যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।

আরও খবর