হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে ইরান, কমছে জাহাজ চলাচল
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে কেবল তেহরান অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, এই অঞ্চলে কার্যকর একমাত্র আইন হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর নির্দেশনা। সংস্থাটির সতর্কবার্তার পর অন্তত তিনটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার উভয় দিক মিলিয়ে মাত্র ১৩টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২৪ এবং বুধবার ছিল ২৭। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি), মেরিনট্রাফিক ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অন্তত চারটি ট্যাঙ্কার উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে তিনটি ছিল অত্যন্ত বড় আকারের ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি)। এছাড়া আরও দুটি সুপারট্যাঙ্কার ইরানি তেল সংগ্রহের জন্য প্রণালীতে প্রবেশ করেছে এবং প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী একটি জাহাজ ওমান উপকূল হয়ে এলাকা ত্যাগ করেছে।
অন্যদিকে এএক্সএসমেরিনের পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৪ জুন ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ারসহ মোট ৬২টি জাহাজ এই পথে চলাচল করেছে। যদিও এটি ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যা, তবুও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা প্রায় ৪৭ শতাংশ কম।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওমান উপকূলের কাছে তাইওয়ানের পরিচালনায় থাকা একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করায় অন্তত তিনটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে আইআরজিসির সতর্কবার্তার মুখে ফিরে যেতে হয়েছে। এর আগে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজও অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তেহরান এখন পর্যন্ত ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে দেশটি একাধিকবার সতর্কবার্তা দিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি করিডরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






