ads

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৯৮০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন উইন্ডো’কে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নেননি। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও বিভিন্ন দেশের সহায়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতায় বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ‘লা গুয়াইরা’ অঙ্গরাজ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সংরক্ষণের একটি কেন্দ্র স্থাপন করেছে সরকার।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়াজুড়ে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এর মধ্যে রাজধানী কারাকাসেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক লয়েস পেস বলেন, আফটারশকের আশঙ্কা ও ভবনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও খবর