বজ্রপাতের আতঙ্কে খেলা বন্ধ, ড্রেসিংরুমে ফরাসিদের অদ্ভুত সন্ধ্যা
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ফ্রান্স-ইরাক বিশ্বকাপ ম্যাচটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, দীর্ঘ বিরতির কারণেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষ হতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে খেলা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ রাখতে হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলে নিরাপত্তার স্বার্থে ম্যাচ স্থগিত করা হয়। দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ড্রেসিংরুমে আশ্রয় নিতে হয়। ফুটবলে সাধারণত ১৫ মিনিটের বিরতিতে অভ্যস্ত খেলোয়াড়দের জন্য টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করা ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে জানান, দীর্ঘ এই বিরতি মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর ছিল।
“সন্ধ্যাটা খুব দীর্ঘ ছিল। আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। মানসিক ও আবেগিক দিক থেকে এটা খুব ক্লান্তিকর ছিল। কারণ, ড্রেসিংরুমে বসে থেকেও পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে হয়েছে,” বলেন তিনি।
ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটিতে দুটি গোল করেন এমবাপ্পে। একটি বিরতির আগে, অন্যটি খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর।
দীর্ঘ সময় কীভাবে কাটিয়েছেন খেলোয়াড়রা—এমন প্রশ্নের উত্তরে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম প্রথমে মজা করে বলেন, “তাস খেলেছি।” পরে তিনি জানান, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আড্ডা ও হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই অপেক্ষার সময় কেটেছে।
দেশম বলেন, “আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম। আড্ডা দিয়েছি, মজা করেছি। এখানে নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সঙ্গে তো লড়াই করা যায় না। ঝুঁকি না নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
এদিকে দর্শকদেরও গ্যালারি ছেড়ে স্টেডিয়ামের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়। লাউডস্পিকারে নিয়মিত পরিস্থিতির আপডেট দেওয়া হচ্ছিল। পরে যখন জানানো হয় যে আবহাওয়ার ঝুঁকি কেটে গেছে, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসধ্বনি ওঠে। অনেক সমর্থককে বৃষ্টির মধ্যেই রেইনকোট পরে নাচতেও দেখা যায়।
ফ্রান্সের ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে জানান, শুধু বসে না থেকে শরীর সচল রাখার জন্য তাঁরা কিছুটা সাইক্লিংও করেছেন।
“মনে হচ্ছিল যেন বিরতির পর নতুন একটি ম্যাচ শুরু হচ্ছে। আমরা কিছুটা সাইক্লিং করেছি, তারপর বসে গল্প করেছি। সবাই চেয়েছিল ম্যাচটা শেষ করতে,” বলেন কুন্দে।
প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে আবার ওয়ার্মআপ শুরু করেন।
অন্যদিকে ইরাক কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড মনে করেন, দীর্ঘ বিরতির নেতিবাচক প্রভাব তাঁর দলের ওপর বেশি পড়েছে। তিনি বলেন, “খেলা আবার শুরু হওয়ার আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, মানসিকভাবে কে বেশি প্রস্তুত থাকতে পারে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের একটি ভুল বড় মূল্য চুকিয়েছে।”
৬২ বছর বয়সী এই কোচ জানান, তাঁর দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ বিরতির অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয়নি। বিরতির সময় ইরাক দল প্রথমার্ধের ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে।
সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখে ফ্রান্স। বিরতির আগে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দলটি পরে আরও দুটি গোল করে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।






