প্রবাসে প্রাণের মিলনমেলা : বিসিইউকে বনভোজন ২০২৫
লন্ডনের আকাশে ছিল হালকা রোদ–মেঘের খেলা। আর সেই খেলারই সঙ্গী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসীরা একত্রিত হলেন লন্ডনের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া পার্কে। ১৬ই আগস্ট শনিবারের দিনভর উৎসব যেন এক টুকরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে বসেছিল লন্ডনের বুকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কমিউনিটি ইউকের (বিসিইউকে) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বহু প্রতীক্ষিত “বিসিইউকে বনভোজন ২০২৫”, যেখানে প্রবাসী তিন শতাধিক পরিবার একসাথে ভাগাভাগি করলেন শৈশব, আনন্দ, স্মৃতি আর ভালোবাসা। বনভোজনের শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া পরিবেশ তৈরি করেন মাওলানা ইব্রাহিম মোল্লা। এরপর স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী জানান, প্রবাসে থেকেও ঐক্যের বন্ধনকে দৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, “এবারের বনভোজন শুধু আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়, 'ইয়েস আই ক্যান' সংগঠনের মাধ্যমে একইসাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয়টি এতিমখানায় খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়, যা দেশে থাকা ভাইবোনদের সঙ্গেও ভালোবাসার সেতু গড়তে সহযোগী ভুমিকা পালন করবে।
দিনব্যাপি এই আয়োজনে শিশু-কিশরদের হাসি-আনন্দে ভরে ওঠে চারপাশ। দৌড় প্রতিযোগিতায় তাদের খুশির উচ্ছ্বাস, নারীদের মার্বেল দৌড় ও বালিশ খেলায় প্রাণখোলা হাসি, আর পুরুষদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মাঠ জুড়ে ছিল উৎসবের রঙ। প্রতিটি মুহূর্ত যেন সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল শৈশবের সেই গ্রামবাংলার খেলাধুলার দিনে।
বনভোজনে ছিল দেশীয় মুখরোচক খাবারের আয়োজন। পোলাও, মাংস, ভর্তা, চাটনি আর মিষ্টির সুবাস যেন প্রবাস জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া স্বাদের টান ফিরিয়ে দিল। এ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বশির ও মোহাম্মদ বশির আহমেদ, যাদের শ্রম ও আন্তরিকতায় খাবারের আয়োজনটি হয়ে ওঠে সবার জন্য স্মরণীয়।
আয়োজনের পেছনে ছিলেন নেপথ্যের বহু হাত। অর্থ সংগ্রহ ও সংগঠনের কার্যক্রমে ছিলেন
সেক্রেটারি শেখ আলম রতন, উপদেষ্টা ইয়াছিন আহমেদ, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ অনেকে।
কানাডা থেকে প্রধান উপদেষ্টা নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ পাঠান উষ্ণ শুভেচ্ছা বার্তা।
রেজিস্ট্রেশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ভূমিকা রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ভুঁইয়া।
অতিথিদের ভিড়ে ছিলেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা—উপদেষ্টা মণ্ডলীদের মধ্যে ছিলেন ওমর ফারুক শাহজাদা, ড. সামিরুজ্জামান সামির, শাহিদ আহমেদ লিটন, হুমায়ুন কবির, জনাব হাবিবুর মতিন খান, এনামুল হক কামাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহিম মিয়া, সহ-সভাপতি জসিম আহমেদ, মাসুদুর রহমানসহ আরও অনেকে। শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কমিউনিটি লিডার—সবাই মিলে একসাথে গড়ে তোলেন এক উষ্ণ পারিবারিক পরিবেশ।
দিনব্যাপী আয়োজনের নেতৃত্ব দেন বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ আলম এবং সম্পাদনায় ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক সলিসিটর সাজ্জাদ হোসাইন। প্রাণবন্ত
উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা সলিসিটর ফারজানা করিম দিনটিকে করে তোলেন আরও
রঙিন।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে শুরু হয় প্রতীক্ষিত রাফেল ড্র। পুরস্কার বিতরণীর আনন্দে মুখর হয়
উপস্থিত সবাই। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালের এ-লেভেল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী
শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রজন্মের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে
অনুপ্রাণিত করা হয়।বনভোজন আয়োজনে অথিতি হিসেবে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ দ্য ওয়েস্ট অফ স্কটল্যান্ড, ইউকে র সহকারী অধ্যাপক ড. আশরাফ মাহমুদ। আরও ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক জুনায়েদ ভুঁইয়া , যুব সম্পাদিকা কাজী মার্জিয়া হক , সদস্য মামুনুর রশিদ সোপান, মাসুকুর রহমান (প্রিন্স) , শাহাদাত মুমিন ,এস , শওকত আজাদ.মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন , তারেক আজিজ , মামুন কবির .শাহজাদা বিশাল , কাইছার আলম ,আরিফুর রহমান ,সালাউদ্দিন লিটন , ফাছিনা হোসাইন ও মনিরুল ইসলাম সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসিদের পরিবারবর্গ।
দিনের শেষে যখন আকাশে ঝিকিমিকি আলো জ্বলে ওঠে, তখনো ভিক্টোরিয়া পার্ক ভরে থাকে হাসি, আনন্দ আর স্মৃতির রেশে। প্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের জন্য এই বনভোজন শুধু একটি আনন্দের দিন নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে প্রজন্মান্তরের হৃদয়ে বিসিইউকে্র সংযোগ, ভালোবাসা আর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে।






